The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

গুজব আর অপপ্রচারের সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

গুজব আর অপপ্রচারের সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের দায়ে নাটোরের এক ব্যক্তিকে সম্প্রতি সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়তই সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে এমন গুজব ও অপপ্রচারকারীদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবুও থেমে নেই এসব মাধ্যমের অপব্যবহার।

দিনদিনই গুজব আর অপপ্রচারের সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। রাষ্ট্র, সরকার তথা ব্যক্তি আক্রমণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক, ইউটিউবকে বেছে নিয়েছে একটি গোষ্ঠী। তাদের দমনে আছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা।

সম্প্রতি পুলিশকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অপকর্ম তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন আইজি। তবে অপপ্রচার বন্ধে প্রযুক্তিখাতে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অপরাধ বিশ্লেষক ও প্রযুক্তিবিদরা।

রাষ্ট্র, সরকার থেকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান-কোনো কিছুই বাদ যায় না অপপ্রচারকারীদের হাত থেকে। কোন দিবস বা উৎসব কেন্দ্র এসব গুজবের ডালপালা ছড়ায় অপরাধীচক্র। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অপপ্রচারকারীদের বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেন আইজিপি।

ডিএমপি ডিসি (সাইবার ক্রাইম-ডিবি) শরিফুল ইসলাম বলেন, যারা ফেসবুকে গুজব ও অপপ্রচার চালায় তাদেরকে আমরা শনাক্ত করছি। পরবর্তীতে যথাযথ প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার মাধ্যমে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

দেশের অভ্যন্তরে থেকে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্র, সরকারবিরোধী অপপ্রচার গুজব ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে সহজেই ব্যবস্থা নিতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে যারা এসব সাইট পরিচালনা করেন তাদের মোকাবেলার উপায় কি?

শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, এক্ষেত্রে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের সহযোগিতা না করে তাহলেকে আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে যায়। কারণ ফেসবুক তথ্য না দিলে সহজে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধটা যখন প্রযুক্তি নির্ভর তখন এ খাতে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। অপরাধীদের নিত্য-নতুন কৌশলের বিপরীতে এসব মাধ্যমে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

অপরাধ বিশ্লেষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলছেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথার্থ তথ্য-প্রযুক্তি আছে কিনা এটি একটি বড় প্রশ্ন। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬০০ থেকে ৭০০ জন লোকের পক্ষে ১২-১৩ কোটি মানুষকে নজরে রাখা সম্ভব না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই খাতে দক্ষদের নিয়ে আলাদা সেল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।