The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

২০১৬ সাল থেকে মাদকাসক্ত পরীমনি

২০১৬ সাল থেকে মাদকাসক্ত পরীমনি
র‌্যাব হেফাজতে পরীমনি। ছবি: স্টার মেইল

চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকাসক্ত। তিনি মদ্যপানের পাশাপাশি ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি ও আইস সেবন করতেন নিয়মিতচলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ পরীমনির বাসায় এসব মাদক সরবরাহ করতেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে র‍্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন আরও জানান, পরীমনির বাসায় ১২০টি ব্যবহৃত মদের বোতল পেয়েছি। এগুলোর সঙ্গে নজরুল ইসলাম রাজের সম্পৃক্ততা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীর বিরুদ্ধে মাদক মামলা, রাজের বিরুদ্ধে পনোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আইন, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি বলা সম্ভব না।

এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী পরীর বাসায় অভিযান পরিচালনা করেছি। তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পেয়েছি। সেগুলো লাইসেন্সে কভার করে না। আমরা পরীর একটি লাইসেন্স পেয়েছি। যেটি আইনসিদ্ধ নয়। তার লাইসেন্সটি অনেক আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।’

র‌্যাব আরও জানায়, জিসান এবং মিশু হাসানকে গ্রেপ্তারের পর সুনির্দিষ্ট কিছু বার এবং ফ্ল্যাটের সন্ধান আমরা পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই বনানী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। থানার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতের বুধবার (০৪ আগস্ট) রাজধানী থেকে আটক করা হয় চিত্রনায়িকা পরীমনি ও প্রযোজক নজরুল রাজকে। তাদের নামে একাধিক মামলা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (০৫ আগস্ট) সকাল থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদর দপ্তরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি জানান, এইচএসসি অধ্যয়নকালে ঢাকায় আগমন তার। এখন পর্যন্ত ৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ নায়িকা। ২০১৬ সাল থেকে তিনি অ্যালকোহলে আসক্ত। তিনি নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করবেন। চাহিদা মেটানোর জন্য তিনি নিজের ফ্ল্যাটে মিনিবার স্থাপন করেন। তার এ বারে নজরুল ইসলাম রাজসহ বিভিন্ন লোকজনের যাওয়া আসা ছিল।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ জানান, মিশু-হাসানের সহযোগিতায় রাজধানীতে কয়েকটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শোবিজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পার্টির মাধ্যমে তারা মোটা অংকের অর্থ আদায় করে নিত। বিদেশে প্লেজার ট্রিপের আয়োজনও করত রাজ। নজরুল ইসলাম রাজের সিন্ডিকেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অপব্যবহার করেছে। তার রাজ মাল্টিমিডিয়ার কার্যালয়টি অবৈধ কাজে ব্যবহার হতো।


সর্বশেষ