The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

বনানী কবরস্থানে সমাহিত হবেন অভিনেতা ইনামুল

বনানী কবরস্থানে সমাহিত হবেন অভিনেতা ইনামুল
ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে বরেণ‌্য অভিনেতা-নাট‌্যজন ড. ইনামুল হকের মরদেহ। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে সেখানে রাখা হবে।

এরপর দুপুর ১২টায় ইনামুল হকের মরদেহ নেওয়া হবে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বুয়েটে। সেখানে জানাজা শেষে বাদ জোহর তাকে সমাহিত করা হবে বনানী কবরস্থানে। 

সোমবার (১১ অক্টোবর) রাতে ড. ইনামুল হকের মেয়ের জামাই অভিনেতা সাজু খাদেম বলেন—‘আমরা বাবাকে শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়ে যাচ্ছি। আজ রাতে বেইলী রোডের বাসায়ই মরদেহ রাখা হবে। আগামীকাল কয়েকটি আয়োজনের পর সমাহিত করা হবে।’

আজ অসুস্থ হয়ে পড়লে ড. ইনামুল হককে শান্তিনগর ইসলামী ব‌্যাংক হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে মারা গেছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে—হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইনামুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন তিনি।

শুরুটা মঞ্চ থেকে। নটর ডেম কলেজে পড়াশুনা কালীন সময়ে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে বুয়েট ক্যাম্পাসেই 'নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়'র যাত্রা শুরু হয়, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো', 'দেওয়ান গাজীর কিসসা', 'নূরুল দীনের সারা জীবন'সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। ১৯৯৫ সালের তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'নাগরিক নাট্যাঙ্গন নামে আরেকটি নাট্যদল। লিখেছেনও বিস্তর। মঞ্চ ও টেলিভিশনের নাটক। লিখেছেন সাহিত্যও।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে নাটকে অংশগ্রহণ করেন ইনামুল হক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো, ‘নির্জন সৈকতে’, ‘গৃহবাসী’, ‘মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র’, ‘মহাকালের ঘোর সওয়ার’, ‘বাংলা আমার বাংলা’ ইত্যাদি।

ড. ইনামুল হকের দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক আর প্রৈতি হক। হৃদি হকের স্বামী অভিনেতা লিটু আনাম। আর প্রৈতি হকের স্বামী অভিনেতা সাজু খাদেম।