The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

কান্নায় ভেঙে পড়লেন শোকে মুহ্যমান লাকি ইনাম

কান্নায় ভেঙে পড়লেন শোকে মুহ্যমান লাকি ইনাম
শিল্পকলা একাডেমিতে বক্তব্য রাখছেন লাকী ইনাম। ছবি: সংগৃহীত

স্বামীকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান লাকি ইনাম। সোমবার বেইলি রোডের বাসায় আকস্মিকভাবে মারা যান বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যকার ড. ইনামুল হক। ড. ইনামুল হকের মরদেহ নেওয়া হয়েছিল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে। সোমবার নাট্যজনকে শেষ একনজর দেখতে ছুটে আসেন। স্মৃতিচারণ করে শোকে ভাসেন সতীর্থ ও নাট্যকর্মীরা।

উপস্থিত ছিলেন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়া স্ত্রী নাট্যজন লাকী ইনাম। জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন স্ত্রী নাট্যজন লাকী ইনাম। সংস্কৃতি অঙ্গনে ড. ইনামুল হকের অবদান স্মরণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন লাকী ইনাম। 

তিনি বলেন, “কিভাবে উনি ছাড়া বাকি জীবনটা থিয়েটার করবো, আমি বুঝতে পারছি না। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না এই মানুষটি চলে গেছে। এত দেশপ্রেমী, এত মানবপ্রেমী, সবাইকে ভালোবাসতেন। কেউ তার সামনে বদনাম করতে পারতো না, বলতেন, ‘তোমরা হয়তো জানো না তার গুণ কোথায়’। থিয়েটারের ছেলে মেয়েরা তাঁর প্রাণ ছিলো। তাঁকে ছাড়া আমি একা একা কী করে থিয়েটার করবো, আমার সংগ্রাম কী করে চালাবো আমি জানি না। আমি জানি আমার সব কাজে আমি তোমাকে পাশে পাবো, পাশে পাবো তোমাকে। তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না, কক্ষণো না।”

শোকসভায় বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকিসহ অনেকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল (১২ অক্টোবর) সর্বস্তরের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে ড. ইনামুল হকের মরদেহ। সকাল সাড়ে ১০টায় সেখানে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে। এরপর বেলা ১২টায় ইনামুল হককে নেওয়া হবে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বুয়েটে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে বাদ জোহর তাকে সমাহিত করা হবে।

সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন ড. ইনামুল হক।

প্রায় পুরো জীবন নাটকের সঙ্গেই কেটেছে তার। ছাত্র অবস্থায় নটরডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন প্রথম মঞ্চে আগমন ঘটে তাঁর। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ নাটকে।

এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। সর্বশেষ দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই নাট্যজন।

নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন ড. ইনামুল হক। বাবার নাম ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)।  ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেনন ড. ইনামুল হক।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


আরও পড়ুন