The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

বিএনপির নীতি একটি আত্মঘাতি নীতি: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির নীতি একটি আত্মঘাতি নীতি: ওবায়দুল কাদের
ছবি: প্রতিনিধি

মো. হারুন অর রশিদ, ডেমরা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নীতি একটি আত্মঘাতি নীতি, যা কর্মি-সমর্থক ও ভোটারদের সাথে প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এ হঠকারিতার মাসুল তারা দিচ্ছে, ভবিষ্যতেও দিতে হবে। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মহাসড়কের ছয় লেনে উন্নতীকরণ প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে জনগন এখন উৎসবমূখর। তাই তৃনমূলে এখন বইছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া। বিএনপি এখন বলছে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নাকি ৩০ আসনও পাবেনা। আগেভাগে তাদের এ সংখ্যাতত্বের হিসাব হাস্যকর। সংখ্যাতত্বের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। ব্যালটের মাধ্যমেই জনগন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। আর জনরায় যাই আসুক তা মেনে নেওয়ার সৎসাহস জননেত্রী শেখ হাসিনার আছে। এদিকে নিজেদের আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার দিবাস্বপ্ন যারা দেখেন, তারা কেন নির্বাচনকে ভয় পান। কেনই বা তারা নির্বাচনের দিন দুপুরে ভোট কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যান। আর এ পলায়নের রাজনীতি যারা করেন, মুখোশের আড়ালে তারাই গণতন্ত্রের শক্র। তারাই ভোটার ও ভোটাধিকারের শত্রু, উন্নয়নের শত্রু বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় সেতু মন্ত্রী বিএনপির মহাসচীবকে মনে করিয়ে দিতে চেয়ে বলেন, বিগত ২০০৮ সালে বিএনপি বলেছিল আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবেনা, পরে দেখা গেল তাদেরই ৩০ আসন পেতে কত কষ্ট।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা জনগণের জন্য কখনো রাজনীতি করেননি, এখনও করছেন না। তাদের রাজনীতি লুটপাটের রাজনীতি। ক্ষমতায় গিয়ে কেউ লুটপাট করে আবার কেউ লুটপাটে সহযোগীতা করে। ক্ষমতার মঞ্চ থেকে তারা ক্রমশই ছিটকে পড়ছে। তাই বিএনপির নেতারা আবোল তাবোল বকেন। সমালেঅচনার ভাষায় তারা যুৎসই শ্বদও খুঁজে পাচ্ছেন না। ব্যক্তি পর্যায়ে এসেও এতটা সমালোচনা করছেন, যা তাদের সম্মানীত নেতাদের সম্মান ও মর্যাদাতেই কালিমা লেপন করছে। এসব ফরমায়েশি সমালোচনা তাদের সজ্জন ও ভদ্র অবয়বকেও প্রশ্নবিদ্য করছে। আসলে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার মোহ তাদের হতাশাকে ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত করছে। আর তাই মীর্জা ফখরুল সাহেবদের দৈর্যচ্যুতি ঘটছে।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স ও জ এর (ঢাকা জোন) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজউদ্দিন খান, ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম আল মামুন, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান,উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক, উপ-সহকারী প্রকোশলী মো. আনিসুর হকসহ  অন্যান্য কর্মকর্তা, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাভোকেট রফিকুল ইসলাম মাসুদ, যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না ও ৪৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে যেসব অভিযোগ সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে প্রয়োজনে সংশোধন করা হবে। আর বিতর্কিতদের বিষয়ে খতিয়ে দেখে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর বিএনপির রাজনীতির কথা বলে কোন লাভ নেই, বিএনপির মূল নেতাই যেখানে পলাতক সেখানে আজ বিএনপির এ দৈন্যদশা খুবই স্বাভাবিক।  

এদিকে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মহাসড়ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, চার লেনে উন্নীতকরণ এ সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো পর্যন্ত ৬০ ভাগ। এই রাস্তার দৈর্ঘ্য হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাস্তার দু’পাশে সাপোর্টেট দু’টি সার্ভিস লেন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে  ১১ টি আন্ডারপাস ও ২৬ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। আশা করি ২০২২ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ইনশাল্লাহ।