The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১

শিরোনাম
  • বিএনপি সরকারের আমলে রেলের কোন উন্নয়ন হয়নি: রেলমন্ত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় মধুখালীর সবজি বাজারে আগুন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে বাগেরহাটে হিউম্যান রাইটস্ ডিফেন্ডার্স ফোরামের মানববন্ধন​​​​​​​ মুরাদনগরে সিএনজি চালক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও ৩ জন গ্রেফতার সাম্প্রদায়িক হামলা ও ধর্মীয় সহিংসতার প্রতিবাদে মাভাবিপ্রবিতে মানববন্ধন পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ নানা আয়োজনে বাউবি’র ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পদ্মায় হঠাৎ পানিবৃদ্ধিতে রাজবাড়ী শহর প্রতিরক্ষা বাঁধে আবারও ভাঙন রাজবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু
  • বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালায় বিশিষ্টজনেরা

    জোটনিরপেক্ষ থেকেও বঙ্গবন্ধু সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছিলেন

    জোটনিরপেক্ষ থেকেও বঙ্গবন্ধু সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছিলেন
    ছবি: সংগৃহীত

    নবীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির আদর্শিক ভিত্তিটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতিদীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতালব্ধ ফল বলে অভিহিত করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু যেই পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছিলেন, তা ছিলো সুদূরপ্রসারী। ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের পুনর্গঠনের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের সংস্থান করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তার স্বীকৃতি অর্জন ছিল সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি জোট নিরপেক্ষ ছিলেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমে ‘বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতিঃ নবীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লড়াই’ শীর্ষক বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালার ষষ্ঠ পর্বে তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সস (কারাস) যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টির পরিচালক অধ্যাপক ড. ফকরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং রিসার্চ ফেলো হাসান নিটোলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সসের (কারাস) নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। এতে আলোচন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল কাসেম। বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতিঃ নবীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লড়াই’ শীর্ষক' মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের  ইতিহাস বিভাগের  অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম।

    মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক সেলিম বলেন, নবীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির আদর্শিক ভিত্তিটি ছিল বঙ্গবন্ধুর নাতিদীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতালব্ধ ফল। ১৯৭১ সালে  মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করলেও, দেশের সার্বভৌমত্বকে সংহত করার আরেক যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭২ সালে। ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের পুনর্গঠনের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের সংস্থান করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তার স্বীকৃতি অর্জন ছিল সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, যে কোন দেশে বিপ্লব বা যুদ্ধপরবর্তী অবস্থা ভীষণরকম অনিশ্চয়তা ডেকে আনে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরেও সেরকম বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু দেশের পুনর্গঠনে নানারকম বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হন। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশবিরোধী নানা তৎপরতা তাঁকে বিপর্যস্ত করে তুলে। এমনি বৈরী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তিনি ধীরে ধীরে ধৈর্য্য সহকারে একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক পুনর্গঠনসহ  জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে একটি বাস্তবধর্মী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু তার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে ছোট-বড় সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হয়ে পাকিস্তান আমেরিকা, চিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কান ভারি করেছে। সংবিধানের মূলনীতির একটা ধর্মনিরপেক্ষতাকে তাদের কাছে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে উপস্থাপন করেছিলো। এইরকম পরিস্থিতিতে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আলজেয়ার্স সম্মেলনে যাওয়া এবং পরবর্তীতে ওআইসি সম্মেলনে যাওয়া অন্তত প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ ছিলো। এই দুই জায়গায় বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে এদেশের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত, সমাজ-সংস্কৃতি, নমনীয় ইসলামের ব্যাখ্যা শোনার মত বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের মত বদলান।

    তিনি বলেন, এমন একটা সময় বঙ্গবন্ধু তার পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যখন পুরো বিশ্ব স্নায়ুযুদ্ধের কারণে দুইটি ব্লকে বিভক্ত ছিলো। এমন একটা পরিস্থিতিতে তিনি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব- এই নীতি ধরে জোট নিরপেক্ষ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এই পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি ১৯৫৯ সালে চিন ভ্রমণের পর স্থাপিত হয়েছিলো। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের মিলিটারি প্রীতি এবং একটা ব্লকে ঢুকে যাওয়া- এই কারণে পাকিস্তানকে ভুগতে হবে। এই কারণে তিনি ১৯৭০ সালে প্রাক-নির্বাচনী এক ভাষণে জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা বলেন। 

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু যেই পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছিলেন, তা ছিলো সুদূরপ্রসারী। এতে তিনি সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি জোট নিরপেক্ষ ছিলেন। তার কূটনীতির কারণেই স্বাধীনতার পর অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভারতীয় সৈন্যদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিলো। অন্যদিকে, তার সুদূরপ্রসারী পররাষ্ট্রনীতির কারণে তিনি দ্রুত সকল দেশের স্বীকৃতি আদায় করতে পেরেছিলেন। মূলত বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতিতে তার সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

    সভাপতির বক্তব্যে  অধ্যাপক ফকরুল আলম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান।


    সর্বশেষ