The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১

হালিশহর কালীবাড়ি মন্দিরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চলছে শারদীয় দুর্গা উৎসব

হালিশহর কালীবাড়ি মন্দিরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চলছে শারদীয় দুর্গা উৎসব
ছবি: প্রতিনিধি

মুনমুন আহমেদ, নগর প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচদিনের সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব শুরুর পর সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দে ভাসছে। নানা আয়োজনে পালিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন দিন তথা মহা অষ্টমী। সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ, নবপত্রিকা স্নান, নবপত্রিকা স্থাপন, মহাস্নান, অষ্টমী হিত পূজা সমাপ্ত এবং ভক্তদের অঞ্জলিদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন আয়োজন,দিনভর চলে আরও নানা আনুষ্ঠানিকতা। 

বুধবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন মণ্ডপে মহাআড়ম্বরে মহাঅষ্টমী উদযাপন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল ভক্তদের সমাগম। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানানোর পাশাপাশি উৎসব আয়োজনে মেতে উঠেছিলেন তারা।

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানাধীন মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ সেখানে উৎসবে সামিল হতে উপস্থিত হয়েছেন। মণ্ডপে শিশুরা মেতে ওঠে হই-হুল্লোড়ে, বয়োজ্যেষ্ঠরা হাত জোড় করে মায়ের শিয়রে বসে প্রার্থনা করেন।

সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পালনে মন্দির কর্তৃপক্ষকে খুবই কঠোর দেখা গেল। মণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের লাইন ধরে প্রবেশের শুরুতেই ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজের ব্যবস্থা। এরপর প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যেকের হাতে বিতরণ করা হয় মাস্ক। স্বেচ্ছাসেবকরাও সবাইকে সতর্ক করিয়ে দিচ্ছিলেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে।

মহাসপ্তমীর বিভিন্ন আচার সম্পর্কে হালিশহর থানার পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী লিটন দেবনাথ লিখন দি বাংলাদেশ টুডে কে বলেন, নবপত্রিকা প্রবেশ, নবপত্রিকা স্নান, নবপত্রিকা স্থাপন, মহাস্নান, সপ্তমী হিত পূজা সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তরা অঞ্জলি দেওয়ার মাধ্যমে মা দুর্গার আরাধনা করেছেন। মায়ের কাছে অর্চনা দিয়েছেন, প্রার্থনা করেছেন। সবাই প্রার্থনা জানিয়েছেন, এই করোনা মহামারি থেকে যেন সবাই রক্ষা পায়। পৃথিবী যেন সুস্থ হয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর সব মানুষের যেন মঙ্গল হয় সেই প্রার্থনাই সবাই করেছি।

মহাসপ্তমীর সার্বিক আয়োজন সম্পর্কে পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন কান্তি নাথ প্রতিবেদককে বলেন, সকালে মাঙ্গলিক ক্রিয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহন করা হয়েছে। বিভিন্ন আচারের মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ভক্তরা অঞ্জলি দিয়েছেন। সবাইকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের অন্যতম আয়োজন হচ্ছে নৃত্য প্রতিযোগিতা, ডাক ঢোল প্রতিযোগিতা, গান প্রতিযোগিতা, উলু প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। আজকেও আমাদের আয়োজন এভাবেই সাজানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সবাইকে নিয়ে আমরা এই উৎসবটি পালন করে থাকি। মা দুর্গার কাছে এটাই প্রার্থনা পৃথিবীর সব মানুষের যেন মঙ্গল হয়, সবাই যেন সুখে থাকে, সুস্থ থাকে।