The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

শনিবার সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান কর্মসূচি

 শনিবার সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান কর্মসূচি
ছবি: সংগৃহীত

পুজামন্ডপে হামলার প্রতিবাদে আগামী ২৩ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে ৬ ঘণ্টা গণ-অনশন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ এ জাতীয় আইনের আওতায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে যেসব মন্দিরে যা যা ক্ষতি হয়েছে, এটি পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

রবিবার দুপুরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে গত শুক্রবার হামলার শিকার ইসকন মন্দিরসহ ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

রানা দাশ গুপ্ত আরও বলেন, যারা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা বাধাগ্রস্ত করা। দেশের বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। এ হামলার মধ্য দিয়ে তারা সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

পরে তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তাদের অপসারণের দাবি জানান।

এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, চৌমুহনী হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় রবিবার বিকালে ইসকন কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করেছে। এ মামলায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপরদিকে পুলিশের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চৌমুহনী ফাঁড়ির এসআই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। দুটি মামলায় এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও একাধিক মামলার প্রস্তুতি এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। এর কিছুক্ষণ পর বাজারের কয়েকটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেছে একদল দুর্বৃত্ত। একইসময় হামলাকারীরা বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা চৌমুহনী বাজারের কলেজ রোড ও ব্যাংক রোডে অবস্থিত বিজয়া সার্বজনীন, ইসকন মন্দির, খোত বাড়ি মন্দির, লোকনাথ মন্দির, দশবূজা মন্দিরসহ কয়েকটি মন্দিরে দফায় দফায় হামলা চালায়। এসময় তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে হামলা শিকার হন বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান সিকদার, এসআই রুবেল মিয়াসহ অন্তত ৭-৮ জন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন। হামলাকারীরা মন্দিরগুলোতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, তিনটি গাড়িতে আগুন ও দোকান-পাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৫৩ রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এ ঘটনায় যয়তন কুমার সাহা (৪২) নামে একজনকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয় রাবেয়া হসপিটালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তার মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত যয়তন সাহা কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার মুরাদনগর গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন কুমার সাহার ছেলে। তিনি পূজা উপলক্ষে চৌমুহনী এক আত্মীয়র বাড়িতে এসেছিলেন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটা থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় চৌমুহনী কলেজ রোড, বস্তাগলি, ব্যাংক রোডসহ বাজারের বিভিন্ন স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পরে শুক্রবার রাতে চৌমুহনী পৌর এলাকায় শনিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন নাহার স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকে ১৪৪ ধারা।

কিন্তু শনিবার ভোরে চৌমুহনীর ইসকন মন্দিরের পুকুর থেকে প্রান্ত চন্দ্র নমদাস (২০) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধারের পর প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চৌমুহনী পৌর শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন মন্দিরের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এক পর্যায়ে তাদের শান্ত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীরা চৌমুহনী বড়পুল সংলগ্ন ফেনী-চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কে অবরোধ করেন। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত, ক্যামেরা ও আইডিকার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। বিক্ষোভ থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন।