The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর ‘বঙ্গভ্যাক্স’: দাবি গ্লোবের

সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর ‘বঙ্গভ্যাক্স’: দাবি গ্লোবের
ছবি: সংগৃহীত

অতিসংক্রমণশীল ডেল্টাসহ করোনাভাইরাসের সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তৈরি ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’ শতভাগ কার্যকর বলে দাবি করেছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ টিকার কার্যকারিতা নিয়ে বানরের শরীরে (অ্যানিমেল ট্রায়াল) যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছিল তাতে এর কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভেরিয়েন্টসহ ১১টি ভেরিয়েন্ট বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় ছিল। আমরা এই ১১টি ভেরিয়েন্টের সিকোয়েন্স অ্যানালাইসিস করে আমাদের ভ্যাকসিনের সিকোয়েন্স মিলিয়ে দেখেছি প্রতিটি ভেরিয়েন্টের ক্ষেত্রেই বঙ্গভ্যাক্স কার্যকর। যার প্রমাণ মিলেছে বানরের পরীক্ষায়! প্রাথমিক ফলাফলে আমাদের টিকাটি বানরে নিরাপদ এবং কার্যকর এন্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়েছে! এখন আমরা ভ্যাকসিনেটেড বানরে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভেরিয়েন্টসহ অন্যান্য ভেরিয়েন্ট প্রয়োগ করে চ্যালেঞ্জ স্টাডি করছি! ইতিমধ্যে ডেল্টার বিরুদ্ধে বঙ্গভ্যাক্স শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে ! অন্যান্য ভেরিয়েন্টের ফলাফলও আমরা আগামি সপ্তাহের মধ্যে পেয়ে যাবো! আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে এ টিকা মানবদেহেও অনুরুপভাবে কাজ করবে! তাই আমরা যদি এ টিকা মানবদেহে পরীক্ষা শেষে বাজারে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে সারা বিশ্বে ডেল্টা ধরনসহ করোনার যে মহামারি চলছে সেটা থেকে একমাত্র বঙ্গভ্যাক্সই পরিত্রাণ দিতে পারবে বলে আশা করছি!

এখন উন্নত বিশ্ব করোনা মোকাবিলায় নতুন ভ্যাকসিনের কথা বলছেন! এ প্রসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় এখনই নতুন ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন, মার্কিন সিনেটর র‌্যান্ড পল। সম্প্রতি এক টিভি শো’তে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, নতুন ভ্যাকসিন দরকার যা ডেল্টা ভেরিয়েন্টের মতো করোনার নতুন রূপের বিরুদ্ধে কাজ করবে। কারণ যখন এক বছর আগে প্রথম ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছিল তখন করোনার এতো রূপ আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত বেশীরভাগ ভ্যাকসিন ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে খুব একটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এমন অবস্থায় আমি মন থেকে বিশ্বাস করি, নতুন ভ্যাকসিন বিশ্বকে এই করোনা সংকট থেকে উদ্ধার করবে।

আমরা গ্লোব বায়োটেক মনে করি, সেই নতুন ভ্যাকসিনটি হতে পারে বঙ্গভ্যাক্স!

আমেরিকার মডার্ণার টিকা মডিফাইড mRNA দিয়ে তৈরি, অপরদিকে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকায় mRNA এর সাথে ভাইরাসের ৩টি প্রোটিন যুক্ত কিন্তু আমাদের টিকাটি ন্যাচারেল/পিউর mRNA দিয়ে তৈরি, তাই মানবদেহে এটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হবে বলে আশা করছি!

মডার্ণা ইদুরে পরীক্ষা করেই মানবদেহে ১ম ও ২য় পর্যায়ে পরীক্ষা করেছে, তারপর মানবদেহে ৩য় পর্যায়ে ও বানরে একসাথে পরীক্ষা করেছে! অপরদিকে ফাইজার-বায়োএনটেক মানবদেহে ও প্রাণীদেহে একসাথে পরীক্ষা করেছে! আমরা মডার্ণার অনুরূপ প্রক্রিয়ায় মানবদেহে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম, তাই আমরা ইদুরে পরীক্ষা করে মানবদেহে ১ম ও ২য় পর্যায়ে পরীক্ষা করার নৈতিক অনুমোদনের জন্য বিএমআরসিতে আবেদন করেছিলাম কিন্তু সেই অনুমতি আমরা পাইনি! আবেদনের দীর্ঘ ৫ মাস পর বিএমআরসি আমাদের বলেছে আগে বানরে পরীক্ষা করতে হবে, তারপর মানবদেহে! তাই আমরা যখন দেশের বাইরে বানরে পরীক্ষা করতে ব্যর্থ হলাম, তখন ভাবলাম নিজেরা দেশে এই সুযোগ সৃষ্টি করে কোন সিআরও-র মাধ্যমে করতে পারি কিনা? দেখলাম ভারত বায়োটেক ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে মহারাষ্ট্রের জংগল থেকে বানর ধরে এনে তাদের আবিষ্কৃত টিকা কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা করেছে এবং সেই টিকা পরবর্তীতে মানবদেহে পরীক্ষা শেষে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে! আমাদের দেশেও বিএমআরসি ভারতের কোভ্যাকসিনকে মানবদেহে পরীক্ষা করার নৈতিক অনুমতি দিয়েছে! তাই আমরা বিএমআরসির শর্ত পূরণের নিমিত্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় বানর সংগ্রহ করে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের এথিক্যাল কমিটির অনুমতি ও অনুমোদিত প্রটোকল অনুসরণ করে সিআরও লিমিটেডের মাধ্যমে বানরে পরীক্ষা করছি! 

আমরা অক্টোবরের মধ্যে বানরে পরীক্ষা শেষ করে বিএমআরসিতে রিপোর্ট জমা দিতে পারবো বলে আশা করছি! যদি বিএমআরসি আর কালক্ষেপণ না করে নৈতিক অনুমতি দিয়ে দেয়, তাহলে আমরা ঔষধ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে নভেম্বরের শুরুতেই মানবদেহে পরীক্ষা শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি!

 


আরও পড়ুন