The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

একসময়ের ‘বিশ্বকর্মা’ এখন সম্পূর্ণ অকর্মা

একসময়ের ‘বিশ্বকর্মা’ এখন সম্পূর্ণ অকর্মা
কুমারখালীর বিশ্বকর্মা খ্যাত ইউসুফ আলী এখন অসুস্থ, অকর্মা। সেবা করছেন তাঁর অসুস্থ স্ত্রী ভানু নেছা। ছবি: প্রতিনিধি

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: নাম তাঁর ইউসুফ আলী (৮০) হলেও স্থানীয়দের কাছে বিশ্বকর্মা নামেই পরিচিত। ঘর নির্মাণ, বাঁশের ঝুড়ি, ইট ভাঙা, ঝাড়ু তৈরি, মুদিদোকানী, নার্সারী সহ বিভিন্ন কাজে - কর্মে পারদর্শী ছিলেন তিনি। তাই সবাই ভালবেসে বিশ্বকর্মা নামেই ডাকেন। 

কিন্তু এক সময়ের বিশ্বকর্মা এখনই আর কোন কাজ করতে পারেন না। শারীরিক অসুস্থতার কারনে সম্পূর্ণ অকর্মা হয়ে আছেন। শক্তিশালী দেহটা এখন অচল পড়ে থাকে কুড়ো ঘরের এককোনে।

ইউসুফ আলী ওরফে বিশ্বকর্মা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা।

কোন জায়গা জমি নেই। জঙ্গলে ভরা একমাঠে স্থানীয় এক ব্যক্তির মেহগুনি বাগানের ভিতর ছোট্ট একটি টিনসেটের সাবড়া ঘরে বাস করেন। পরিবারে শুধু তাঁর এক স্ত্রী মোছা. ভানু নেছা (৫১) আছেন। ভানু নেছা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তিনিও শারীরিকভাবে অসুস্থ।

এলাকাবাসী-সুত্রে জানা গেছে, ইউসুফ আলী প্রায় পঁচিশ বছর হলো যদুবয়রা ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে। এরআগে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ জীবন - যাপন করেছেন। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। কখনও ঝাড়ু তৈরি, কখনও হাতপাখা, আবার কখনও নার্সারী, মুদিদোকানীসহ বিভিন্ন কাজ করতেন। 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের বিশ্বকর্মা খ্যাত ইউসুফ আলী এখন সম্পূর্ণ অকর্মা। মাঠের মাঝে পরের বাগানে জরাজীর্ণ বসবাস।

তারা আরও জানায়, প্রায় পনেরো বছর পূর্বে বল্লভপুর এলাকা থেকে তাঁর প্রথম স্ত্রী পরকীয়া প্রেমের টানে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। পরে তিনি ভানু নেছাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তাঁদের কোন সন্তান- সন্তানাদি নেই। তবুও এই বয়সে তিনি রাস্তার দুইপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বীজ বপন করতেন এবং জন্মানো চারা বিক্রি করে চলছিল দুজনের সংসার। 

কিন্তু গত ১৯ অক্টোবর প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হন ইউসুফ আলী। তখন থেকেই কর্মহীন তিনি। দুজনের সংসারের হাল ধরেন স্ত্রী। তবে গেল বছর আম্ফান ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে স্ত্রীর বাম হাতের উপর। বিনাচিকিৎসায় তাঁর এহাতটিও অকর্মা। এখন আত্মমানবতায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী ভানু নেছা বলেন, 'হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অকর্ম হয়ে পড়েছেন। নিজেদের কোন জায়গাজমি-টাকাপয়সা নেই। আমিও অসুস্থ। খাবো কি? চিকিৎসা করাব কিভাবে? আমি সবার সহযোগিতা চাই।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা একটি বাগানের মধ্যে পরের জমিতে অন্ধকারে থাকি। একটু আলোর ব্যবস্থা করলে ভাল হত।'

স্থানীয় মেম্বর মতিয়ার রহমান বলেন, 'বিশ্বকর্মা আগে কুমারখালী এলংগীপাড়া বাস করতেন। ২৫ বছর হল বল্লভপুর এলাকায় থাকেন। আমি তাঁর একটি বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেছিলাম।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, 'ফেসবুকে দেখে তাৎক্ষণিক খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে পরবর্তী সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।'