The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

শিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিকল্প নেই : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

শিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিকল্প নেই : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

শামসুল হক ভূইয়া, গাজীপুর প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল এক এমপি বলেছেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিকল্প নেই। আমরা আশা করবো এই বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের কলেজগুলোর শুধু অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ দায়িত্ব পালন করবে না, পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক রিফর্মের দায়িত্বও পালন করার সুযোগ থাকা দরকার।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাই। কারণ শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলে মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। অ্যাকাডেমিক বিষয়েও যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে এই বিশ্ববিদ্যালয়।’  

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি’র সভাপতিত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এম.পি, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এম.পি., অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বৃহস্পতিবার বিকালে গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। বিকাল ৪টায় কেক কেটে, শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আজ এর ২৯তম জন্মবার্ষিকী। এটি সত্যিই আনন্দের। শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বৃহৎ সংখ্যক গ্রাজুয়েট রয়েছেন তাদের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, যাতে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা এবং কর্মমুখি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি আমরা শিক্ষা গ্রহণের থিওরিটিক্যাল আসপেক্ট  এর পাশাপাশি প্রায়োগিক শিক্ষা পদ্ধতির দিকে যাচ্ছি। কারণ শিক্ষাটা যেন বাস্তবমুখি ও কর্মমুখি হয়।’

শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক গুণাবলীর সমন্বয়ে শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই সফট স্কিলস অর্জন করতে হবে। প্রবেলেম সলভিং মেথড জানতে হবে। পৃথিবী পরিবর্তনশীল, আধুনিক শিক্ষা তাদের গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি তাদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হতে হবে। শৈশব-কৈশর থেকেই অসাম্প্রদায়িক আদর্শে বেড়ে উঠার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ বিষয়ে একচুল ছাড় দেয়া যাবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ইকো-সিস্টেম চালু করার আহবান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধানতম কাজ হচ্ছে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা। পরিবেশটা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন গবেষণার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয়।’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশের কলেজগুলোতে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অনেক স্বল্প  আয়ের মানুষের সন্তানরাও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছেন। এই সুযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত না করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হতো।’ 

স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল, হাওর-বাঁওড় এর গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে 

ইনক্লুসিভ এবং হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ নিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যদিয়ে আগামী দিনে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার শ্রেষ্ঠ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অঙ্গীকার করতে চাই, বঙ্গবন্ধুর কন্যা যেভাবে অতন্ত্র প্রহরীর মতো বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করতে চান- এই গতি অপ্রতিরোধ্য। এই গতি বিশ্বকে নাড়া দেবে। এই গতি মানবিক বাংলাদেশকে সেই জায়গায় দাঁড় করাবে যেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের আগামী প্রজন্ম সাহসিকতার সঙ্গে বলতে পারবে আমি বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার বাঙালির সন্তান। যেখানে কেউ প্রতিমার গায়ে হাত দেবে না। কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবে না। যেখানে ভাই-বোনের সম্মিলনীতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব কিছু ভুলে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর 

ভাষায় আমি বাঙালি এই হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।’ আলোচনা সভা শেষে বরেণ্য রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী প্রফেসর ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফাতেম তুজ জোহরা, কিরণ চন্দ্র রায়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সঙ্গীত কলেজ, সুরের ধারা

কলেজ- এর শিল্পীবৃন্দ  মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারি উপস্থিত ছিলেন।  


আরও পড়ুন