The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

মাদ্রাসা নামকরণের বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক বৃদ্ধ নিহত

মাদ্রাসা নামকরণের বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক বৃদ্ধ নিহত

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের মল্লাপাড়া এলাকায় একটি মাদ্রাসার দখল বিরোধের জেরে রুহুল আমিন (৫৬) নামে এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো কয়েক জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত রুহুল আমিন উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়াডের মৃত শফিউর রহমানের  ছেলে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিয়া মল্লাপাড়ার মুন্সি পুকুর পাড় এলাকায় আশিয়া মল্লাপাড়া আহমদিয়া রহমানিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি ১৯৮০ সালে কবির আহমদ চৌধুরী ও রুহুল আমিন ও নুরুল আমিন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেছিলেন। তৎকালীন আবুল বাড়ির বংশের লোকেরা এই মাদ্রাসা পরিচালনা  করেছিলেন। পরে পরামর্শের মাধ্যমে এই মাদ্রাসাটা একই এলাকার জামাল উদ্দিনকে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেসময় মাদ্রাসা কমিটি বিহীন একক ভাবে পরিচালনা করেছিলেন যার কারণেই মাদ্রাসাটি কিছুদিন একক সুন্দর ভাবে পরিচালনা করেও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় কমিটি না থাকার কারণে। বর্তমানে মাদ্রাসাটি সংস্কার ও সঠিক  পরিচালনার অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বন্ধ রয়েছে । এ অবস্হায় কবির আহমদ চৌধুরীর চার ছেলেরা জামাল উদ্দিন চৌধুরী, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, জালাল উদ্দিন চৌধুরী,মোঃ বেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং রুহুল আমিন ও তার ভাই নুরুল আমিন  মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিা করেছিলেন। 

বেশ কিছুদিন ধরেই স্হানীয় কামাল উদ্দিন  ও তার ছেলে রাসেল সহ তাদের লোকজন মাদ্রাসাটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের লোকজন যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে এমনটি বিবেচনা করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্হানীয় জনতার উপস্থিতিতে একটা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ অবস্থায় নিহত রুহুল আমিন সকাল এগারোটার দিকে মুন্সি পুকুর পাড় মাদ্রাসা এলাকায় আসলে তাকে দেখে কামাল উদ্দিন সহ তার অনুসারীরা গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন উভয় পক্ষের লোকজনের হাতাহাতির মধ্যে রুহুল আমিনের শরিরে সজোরে ধাক্কা লাগলে সাথে সাথে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এসময় তাকে সবাই উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এব্যাপারে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক প্রনব ঘোষ জানান, সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বেশ কিছু লোকজন রুহুল আমিন নামের একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। ধারনা করা হচ্ছে তাকে হাসপাতালে আনার পথে মৃত্যু হয়েছে। 

পটিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক এরশাদ দৌলা জানান, আমি বর্তমানে পটিয়া হাসপাতালে লাশের সাথে আছি। আমরা লাশটির শরীরের সবখানে দেখেছি তার শরিরের কোন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শুনেছি সকালে মুন্সি পুকুর পাড় এলাকায় মাদ্রাসা সংক্রান্ত ব্যাপারে কথা কাটাকাটির সময় এ ঘটনাটি ঘটেছে। 

নিহতের ভাতিজা ইফতেখার চৌধুরী সুজন বলেন, আশিয়া মল্লাপাড়া ভূমিদস্যু কামাল ও তার পরিবার থেকে বহুদিন ধরে  রুহুল আমিন চাচা নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। নিজের জমি দান সহ প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার সংস্কারের কাজ করার জন্য কথা বলতে গিয়ে প্রাণ হারালো রুহুল আমিন চাচা।  ভূমিদস্যু কামাল ও তার পরিবার এ মাদ্রাসাটি বন্ধ ও জোরজবস্তি মালের গোদাম এবং বিটা থেকে চলাচলের রাস্তায় হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল বহুদিন যাবত। আশিয়া মল্লাপাড়া আহমদীয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমিন চাচা মাদ্রাসার জন্য নির্যাতনের শিকার আজ প্রাণ হারায়, আমরা আশিয়া ইউনিয়নের জনগণ এর ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করছি। 

নিহতের চাচাত ভাই নাসির হাজারি বলেন,এমন ঘটনার জন্য আমি বিস্মিত। এধরনের ঘটনা এলাকাই কখনো আশা করি নাই। এজন্য আমি লজ্জিত।প্রতিবেশির এমন আচারন কখনো আশা করি নাই। আমি সুষ্ট একটা সমাধান এলাকা বাসীর কাছ থেকে আশা করছি। 

পটিয়া থানার পরিদর্শক  (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার দি বাংলাদেশ টুডে কে জানান, ঘটনার পর আমি নিজে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমি জানতে পেরেছি মুন্সি পুকুর পাড় এলাকায় একটা মাদ্রাসার নাম করনের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। আজ শুক্রবার দুপুরে এ মাদ্রাসা নামকরণের বিরোধ নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সকালে উভয় পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটির সময় রুহুল আমিন থামাতে গেলেই এক পর্যায়ে সে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এসময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারনা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোক করেছেন। 

তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ হতে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। লাশটি এখনো পটিয়া হাসপাতালে রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।


আরও পড়ুন