The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

চট্টগ্রামের পটিয়ার ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগীর আ্যামফোটেরিসিন ইনজেকশন

চট্টগ্রামের পটিয়ার ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগীর আ্যামফোটেরিসিন ইনজেকশন

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর জন্য যে ইনজেকশনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না, এক সপ্তাহের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সেই ঔষধটির কিছু ডোজ মিলেছে। 

আজ শুক্রবার(৩০জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অ্যামফোটেরিসিন-বি ইনজেকশনের ২২ টি ভায়াল সংগ্রহ করতে পেরেছে আক্রান্ত রোগীর ছেলেরা। 

তার ছেলে বেলাল হোসাইন জানান, মায়ের জন্য যে ইনজেকশনটি লাগবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা গত ৬ দিন ধরে সবখানে আমরা ঔষধটা তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি। অনেক খোঁজাখুঁজির  পর বিকন ফার্মাসিউটিক্যাসের ২ টি ও ২০ টি পাওয়া গেছে ইন্ডিয়ান কোম্পানির। আমার ছোট ভাই এই ঔষধ গুলো নিয়ে আজ ঢাকা হতে রওনা দিয়েছে। 

এর আগে গত ২৫ জুলাই প্রতিদিন ৫ ভায়াল করে ১৫ দিন এই ইনজেকশনটি প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। গত ৫ দিন ধরে সারা দেশের কোথাও ঔষধটি পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে আজ যেসব ডোজ পাওয়া গেছে সেগুলো দিয়ে ৪ দিন চলবে। এর মধ্যে আরও ঔষধ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন বেলাল হোসাইন। 

ওই সময়ের অভিজ্ঞতা বর্নণা করে মো. বেলাল হোসাইন বলেন, করোনার কারণে সপ্তাহখানেক আগে বাবাকে হারিয়ে পুরো পরিবার এমনিতেই বিধ্বস্ত। এর পর পরই আমরা মায়ের এই রোগের কথা জানতে পারি। হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন অ্যামফোটেরিসিন-বি ইনজেকশনটি না দিলে মায়ের সেরে উঠার সম্ভাবনা কম। ওষুধ প্রশাসন, কয়েকটি ওষুধ কোম্পানিসহ এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জায়গায় খোঁজ করেছি। অথচ কোথাও থেকে সাড়া পাচ্ছিলামনা।’ 

শেষ পর্যন্ত এই ঔষধের ২২ টি ডোজ সংগ্রহ করে আজ ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন আক্রান্ত ওই নারীর ছোট ছেলে হেলাল। আগামী কাল থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঐ নারীর শরীরে ইনজেকশনগুলো প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন তার সন্তানেরা। 

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পাওয়া এই রোগী বর্তমানে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষের তত্ত্বাবধানে আছেন। ঔষধ সংগ্রহের আগে এই চিকিৎসক বলেন, আমরা এখন মূল ইনজেকশনটি না পেয়ে একটি বিকল্প ওষুধ পোসাকোনাজল রোগীকে দিচ্ছি। এটিতে মূলত অ্যামফোটেরিসিন-বি ইনজেকশনটি প্রয়োগের পরেই দিতেই হয়। তবে এখন কিছু করার না থাকায় আগেভাগেই তা দিয়ে দিচ্ছি। এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হলে মারা যাওয়ার আশংকা ৫০ থেকে ৫৪ শতাংশ। তাই যত দ্রুত পারা যায় মূল ইনজেকশন দিতে হবে। 

এসব ছাড়াও এই নারীর একটা অপারেশন করানোর বিষয়ে ভাবছেন জানিয়ে ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ বলেন, 'এখন তার চোখে এটি রয়েছে। তাই যাতে তার নাক ও মুখে  নতুন করে এটি না ছড়ায় তাই একটি জটিল অপারেশন করতে হবে।'

জানা গেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ওই নারী চট্টগ্রামের পটিয়ার বনেদী একটি ব্যবসায়ী পরিবারের কর্তী। উপজেলার  মুনসেফ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের সবচেয়ে বড় দোকানটিই তাদের। ৫ দশক আগে তার স্বামী মোহাম্মদ ইদ্রিচ সওদাগরের গড়ে তোলা এই পারিবারিক ব্যবসা এখন দেখাশুনা করেন তার দুই ছেলে। 

স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট সুনাম রয়েছে পরিবারটির।

এমন সুনাম আর অর্থ-বিত্ত থাকতেও পরিবারের ‘মধ্যমণি’ মা ঔষধের অভাবে চিকিৎসা পাবেন না এটি কোনমতেই মানতে পারছেন না তার সন্তানরা। 

মো. হেলাল বলেন, 'এই ঔষধটি অনেক ব্যয়বহুল। কিন্তু যা টাকা লাগে আমরা খরচ করতে রাজি আছি। তবুও ঔষধ পাচ্ছিলাম না ৫ দিন। এখন কিছু ঔষধ পেয়েছি। আপাতত এগুলো দিয়ে চিকিৎসা শুরু করি। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।