The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

ক্যাম্প ন্যু’তে ক্লাসিকো জিতে শীর্ষে রিয়াল

ক্যাম্প ন্যু’তে ক্লাসিকো জিতে শীর্ষে রিয়াল
ছবি: সংগৃহীত

মূল দায়িত্ব তার রক্ষণ সামলানো। তবে আক্রমণেও যে কম যান না, ক্যারিয়ারে প্রথম ক্লাসিকো খেলতে নেমে অসাধারণ এক গোল করে প্রমাণ দিলেন দাভিদ আলাবা। ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া চেষ্টা করেও পারল না বার্সেলোনা, উল্টো যোগ করা সময়ে হজম করল আরেকটি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ।

কাম্প নউয়ে রোববার লা লিগার ম্যাচটিতে একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি গোল অবশ্য পেয়েছে বার্সেলোনা। তবে সেটা হয়তো কেবল তাদের আফসোসই বাড়িয়েছে। উত্তেজনায় ভরা ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে কার্লো আনচেলত্তি দল।

এবারের এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল-বার্সার দুই কোচের বক্তব্য নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। বার্সেলোনার কোচ রোনাল্ড ক্যোমান বলেছিলেন, মাদ্রিদকে হারাতে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলতে হবে, আর তার দল সেটি খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে মাদ্রিদের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি বলেছিলেন, বড় দলের বিপক্ষে খেলার আগে কিছুটা ভয় থাকা ভালো। নাহলে আপনি বিড়াল ভেবে সিংহের খপ্পরে গিয়ে পড়বেন।

দুই কোচের কথার প্রতিফলন ঘটেছে মাঠে। বলা চলে, ভয়ডরহীন ফুটবলই খেলেছে বার্সেলোনা, যেটা অবশ্য বরাবরই খেলে থাকে তারা। বিপরীতে মাদ্রিদ ছিল বেশ সাবধানী। সুযোগ সন্ধানীও বটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পাওয়া দুটি গোলই তা বলে দিচ্ছে।

মাঠে একাধিক রূপে সমানতালে খেলে যেতে পারদর্শী মাদ্রিদের নবাগত ডেভিড আলাবা। তবে দলে তার মূল কাজ রক্ষণভাগে। এদিন আক্রমণেও উঠে গেছেন বারবার। ফলও পেয়েছেন। মাদ্রিদের প্রথম গোলটি আসে আলাবার পা থেকে। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে গোল করেন ডেভিড আলাবা। বাম পাশ থেকে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের বুলেট গতির শট জালে জড়ায় বিনা বাধায়। ক্যাম্প ন্যুতে স্তব্ধতা নামিয়ে ১-০ তে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

প্রথমার্ধেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় বার্সেলোনা। তবে মেমফিস ডিপাইয়ের নেওয়া কর্নার থেকে জেরার্ড পিকের নেওয়া হেডটি অল্পের জন্য জাল খুঁজে পায়নি।

গত কয়েক বছর ধরে এল ক্লাসিকোতে সাধারণত বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকে বার্সেলোনা। তবে এবার প্রথমার্ধে বল পজেশনেও পিছিয়ে পড়ে তারা। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে বল পায়ে রাখার ব্যাপারে মনযোগী হয়ে উঠে ক্যোমানের শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধে স্কোরবোর্ডে সমতা আনার একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও কোনোটাই ফলপ্রসূ হয়নি। এ সময় মাদ্রিদও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করে। বার্সেলোনার ভঙ্গুর রক্ষণভাগ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে দ্বিতীয়ার্ধে।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে, অর্থাৎ ৯৩ মিনিটে আরেকটি প্রতি আক্রমণের শিকার হয় বার্সেলোনা। এ আক্রমণ থেকে গোল পান লুকাস ভাস্কেজ। ২-০ তে এগিয়ে থেকে যখন শেষ বাঁশির অপেক্ষায় সাদা জার্সিধারীরা, ঠিক তখন বার্সেলোনার জার্সিতে গোলের খাতা খোলেন আগুয়েরো। ডান দিক থেকে দেস্তের একটু উঁচু করে বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে ভলিতে হারের ব্যবধান কমান আর্জেন্টাইন তারকা।    

এই নিয়ে রিয়ালের বিপক্ষে লিগে টানা চার ম্যাচ হারল বার্সেলোনা, যার তিনটিই কুমানের মেয়াদে। ডাচ এই কোচের ওপর যা চাপ আরও বাড়াবে বৈকি।

২০১৯-২০ আসরে ঘরের মাঠে ড্রয়ের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠে গিয়ে হেরেছিল বার্সেলোনা। আর গত মৌসুমে লিগে রিয়ালের বিপক্ষে দুই দেখায়ই হারে কুমানের দল। সব মিলিয়ে লা লিগায় রিয়ালের বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়শূন্য রইল কাতালান ক্লাবটি। ২০০৮ সালের মে মাসের পর থেকে কোনো এক দলের বিপক্ষে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ টানা ব্যর্থতার চিত্র।

৯ ম্যাচে ৬ জয় ও ২ ড্রয়ে ২০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রিয়াল। যথাক্রমে পরের দুটি স্থানে থাকা সেভিয়া ও রিয়াল সোসিয়েদাদের পয়েন্টও সমান ২০।

সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে নেমে গেছে বার্সেলোনা।


সর্বশেষ