The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

তুরস্কের ১৭ শহরে আগুন: ষড়যন্ত্র দেখছেন এরদোয়ান

তুরস্কের ১৭ শহরে আগুন: ষড়যন্ত্র দেখছেন এরদোয়ান
ছবি: সংগৃহীত

দাবানলে পুড়ছে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল। গরম আবহাওয়া এবং দমকা বাতাসের কারণে মানাওগাত শহর ঘিরে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। শহরটির কাছে এখন পর্যন্ত চার জনের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী পিকেকে'র হাত রয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, ২৮-৩০ জুলাই তিনদিনে তুরস্কের ১৭টি শহরের ৭১ স্থানে অগ্নিকাণ্ড কুর্দিদের সন্ত্রাসবাদ ও ধংসযজ্ঞ কার্যক্রমের অংশ।

আগুন লাগার স্বাভাবিক কোনো কারণ না থাকায় এর পেছনে পিকেকে'র হাত রয়েছে বলে মনে করছে তুরস্কের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ও।

গণমাধ্যমে শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলছেন, আমরা এ আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। মানাভগাট থেকে মারমারিস এবং বদরাম পর্যন্ত একই সময়ে আগুনের ঘটনা কিভাবে সম্ভব হতে পারে।

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আগুন নেভানোর কাজে যখন একটি বাহিনী কাজ করছিল, তখন একইভাবে ৩০ জুলাই রাতে উত্তর ইরাকে পিকেকের ৪০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।

পিকেকের সদস্যরা বিভিন্ন সময় তুরস্কে আগুন হামলা চালিয়ে আসছে এমন নজির রয়েছে। তবে চলমান অগ্নিকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি পিকেকে। এর আগে পরিবেশের ক্ষতি করে পিকেকে বহুবার নানা প্রতিশোধ নিয়েছে।

পিকেকের সমর্থকরা বনে, গাছপালায় আগুন লাগিয়ে প্রতিশোধ নেয়। এরকম ঘটনা ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই প্রচার পায়।

গতবছরের অক্টোবরে পিকেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তুরস্কের কয়েকটি শহরে কুর্দিরা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। ওইসব হামলায় তুরস্কের ৪০০ একর জমি ও বন পুড়ে গিয়েছিল। শত শত প্রাণীকে সরিয়ে নিতে হয় এবং বহু আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে হয়েছিল।

পিকেকের একটি গ্রুপ আগুনের দায় স্বীকারও করেছিল যা পিকেকের অনলাইন নুসি সিভানে প্রকাশও পেয়েছিল। গ্রুপটি তুরস্কের আগুনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিল 'পবিত্র আগুনকে স্যাল্যুট'।

তুরস্ক মনে করে পিকেকে কুর্দিদের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তারা স্বাধীনতাকামী হিসেবে নিজেদেরকে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করতে চায়। ১৯৮৪ সালে সংগঠনটির উত্থান হওয়ার পর থেকে তাদের তথাকথিত লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানি গেছে। এদের মধ্যে নারী-শিশুসহ বেসামরিক লোকই বেশি।

পিকেকের যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া দেশ গ্রিসও আগুন হামলার বিষয়টি বিভিন্ন সময় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের গোয়েন্দারা।

শুধু তুরস্কের বনে নয়, তেল পাইপ কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানেও পিকেকে আগুন লাগিয়ে দেয়, এমন অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ভূমধ্যসাগর কেন্দ্রিক পর্যটকরা তুরস্কে আসতে অনীহা প্রকাশ করে।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত পিকেকে নেতা মুরাত কারাইলানের একটি কথা প্রচলিত আছে। তা হলো 'আমাদের অস্ত্র নেই, কিন্তু আমাদের আছে ম্যাচ এবং গ্যাসলাইট।'

সূত্র: ২৪ লাইভ নিউজ।