The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঈদযাত্রায় ২৪০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৩ জন

ঈদযাত্রায় ২৪০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৩ জন
ফাইল ছবি

ঈদুল আজহার চলাচলে সারা দেশে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ও ৪৪৭ জন আহত হয়েছে। ‌‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন ২০২১’–এ এমন তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিস্তারিত জানান সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা জাতীয়-আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মনিটরিং করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, সড়ক, রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ২৯৫ জন নিহত ও ৪৮৮ জন আহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত হলেও স্বল্পসময়ের জন্য গণপরিবহন চালু করায় সড়কে গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহন বিশেষ করে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা-ব্যাটারিচালিত রিক্সা, ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানে একসঙ্গে গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে গত ছয় বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েছে।  

ঈদযাত্রা শুরুর দিন গত ১৪ জুলাই থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ৪৪৭ জন আহত হয়েছে।  

এ সময়ে রেলপথে নয়টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে। নৌ পথে ১৩ টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত এবং ২১ জন নিখোঁজ হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে যৌথভাবে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ২৯৫ জন নিহত ও ৪৮৮ জন আহত হয়েছে। তবে ২৩ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার পর ২৫ জুলাই থেকে সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমতে থাকে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ মনিটর করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আগের ঈদগুলোতে সরকারের নানা মহলের তৎপরতা থাকায় দুর্ঘটনার লাঘাম কিছুটা টেনে ধরা সক্ষম হলেও কঠোর লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।  

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে-  

•    জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা 
•    দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ 
•    যানবাহনের ত্রুটি সারানোর উদ্যোগ গ্রহণ 
•    ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা 
•    সড়কে চাদাবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা 
•    সড়কে রোড সাইন রোড মার্কিং স্থাপন করা 
•    সড়ক পরিবহন আইন যথাযতভাবে বাস্তবায়ন করা 
•    ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ করা
•    গণপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা 
•    মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল হক ও প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।


সর্বশেষ