The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

উচিতপুর ট্রাজেডির এক বছর পূর্তি

উচিতপুর ট্রাজেডির এক বছর পূর্তি

পরিতোষ দাস, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নৌকাডুবিতে ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনার এক বছর পূর্ণ হল আজ বৃহস্পতিবার। ওই দিন নেত্রকোনায় মদনের উচিতপুর হাওরে পর্যটকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে ১৮ জন পর্যটকের প্রাণ হানির ঘটনা ঘটে। তবে তাদের স্বরণে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে মিলাদ মাহফিল কালব্যাচ ধারণ শোক র‌্যালির কোন আয়োজন করা হয়নি বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর মামলায় গত ২৭ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে প্রধান আসামি ট্রলার মালিক উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুলিয়াটি গ্রামের নূরুল হকের (পুলিশ মিয়া) ছেলে লাহুত মিয়া(৪১)কে  উচিতপুর ট্রলারঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া নৌকার দুইজন মাঝি উচিতপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে আল আমিন ওরফে শাহাদাদ (২৮) এবং কুলিয়াটি গ্রামের আলাদ মিয়ার ছেলে খায়রুল হককে(৩০) থানার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হলেও আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। 

গত ২০২০ সালের ৫ আগস্ট ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রামের ও গৌরীপুর উপজেলা থেকে ৪৮ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী পর্যটকবাহী যাত্রী উচিতপুর ট্রলারঘাট থেকে ভাই ভাই ট্রলারে হাওর ভ্রমণে বের হয়। ট্রলারটি উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের রাজালীকান্দা নামক স্থানে পৌঁছলে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারডুবে দুই কন্যা শিশুসহ ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। 

এ নিয়ে ইউএনও বুলবুল আহমেদকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসক। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। ১৯ আগস্ট ২০২০ জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ইউএনও বুলবুল আহমেদ।

তবে তদন্তে বলা হয়েছিল প্রচন্ড বাতাস ও ঢেউয়ের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারে বেঁচে যাওয়া যাত্রী, স্থানীয় উদ্ধারকর্মী, প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের অভিভাবকদের বক্তব্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে পাঁচটি সুপারিশও করা হয়। ফলে তাৎক্ষণিক নৌকার মালিকসহ মাঝিরা এ আইনের ফাঁকফোকর থেকে বের হয়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিক এ প্রতিবেদন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় সচেতন মহলের মধ্যে। 

পরে ঢাকার বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নৌ আদালতে মামলা হয়। এতে নৌকার মালিক লাহুত মিয়া ও দুই মাঝিকে আসামি করে নৌপুলিশ। এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তাদের বিরুদ্ধে।  

তবে এবারো বর্ষা মৌসুমে উচিতপুরের ট্রলার ঘাটে পর্যটকরা দূর-দূরান্ত থেকে আসছে। আর এই সুযোগে গত বছরের ন্যায় যাত্রী পরিবহনের প্রতিযোগিতায় নেমে গেছে ট্রলার মালিকরা।

৪ আগষ্ট সরজমিনে ঘাটে গেলে স্থানীয় প্রশাসন কিছুটা নজরদারি লক্ষ করা গেছে। তবে ট্রলার মালিক, চালক ও যাত্রীরা কোনো বিধিনিষেধ মানছেন না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি  নৌকায় লাইফ জ্যাকেট, জীবন রক্ষা সরঞ্জামাদি রাখার শর্ত দেওয়া হলেও নামমাত্র মানছে ট্রলার মালিকরা।

পরিবহন করা হচ্ছে ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী। চালানো হচ্ছে ফিটনেসবিহীন নৌকাও। ফলে আবারও দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে তদন্ত কমিটির সুপারিশে দমকল বাহিনী রাখার প্রস্তাব করা হলেও অদ্যাবধি ডুবুরি দল পাঠানো হয়নি সেখানে নেই কোন পুলিশ ক্যাম্প।

মদন থানার ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, নৌকার মালিক লাহুত মিয়া, মাঝি আল আমিন ও খায়রুল হককে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন। তবে এ মহামারি করোনার জন্য ঘাট এলাকায় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে বর্তমানে মামলাটি কোন অবস্থায় আছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার বিষয়টি হল নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের। তারাই ভাল বলতে পারবেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই ঘাট এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। চালকদের প্রশিক্ষণ  দিয়েছি।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরক্ষা সমাগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নৌকা যেন দিক বিধিক না যেতে পারে তাই দুই দিকে দুটি সৌর প্যালেন স্থাপন করেছি। ১৮জন প্রাণ হানির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, নিহত ব্যাক্তিদের স্বজনদের কোন অভিযোগ না থাকায় ট্রলার মালিক ও মাঝিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তবে নৌঅধিদপ্তর একটি মামলা করেছিল এ মামলায় তারা জামিনে আছে।
 


সর্বশেষ