The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার আলী আশরাফ আর নেই

সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার আলী আশরাফ আর নেই
অধ্যাপক আলী আশরাফ। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ আর নেই।

শুক্রবার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত প্রবীণ এই সংসদ সদস্যের একমাত্র তনয় মুনতাকিম আশরাফ টিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

সরকার দলীয় এ এমপির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ও জনমানুষের এই নেতার মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক এবং দেশপ্রেমিক জননেতাকে হারালাম। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে আরও শোক জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে তার নির্বাচনী এলাকা চান্দিনাসহ কুমিল্লাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। 

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

চান্দিনার গল্লাই মুন্সিবাড়ির মরহুম ইসমাইল হোসেন মুন্সির ছেলে অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি ১৯৬২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদান করে রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখেন। ১৯৭০-এর পাকিস্তান সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে ‘মই’ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে জয় না পেলেও ‘মাছ’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ১৯৭৩ সালের প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যতগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তার প্রত্যেকটিতেই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো বিজয় লাভ করেন। ২০০০ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রায় ৬০ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানেন। 

এর আগে অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি পিত্তথলিতে পাথরসংক্রান্ত সমস্যায় গত ২ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীরে নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। সঙ্গে নিউমোনিয়া রোগেও আক্রান্ত হন। পরবর্তী সময়ে ৯ জুলাই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ২১ জুলাই বিকাল ৩টায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।